জীবনে মনোভাবের প্রভাব

আল কোরানের অর্থ না বুঝিয়ে কেন আরবী মুখস্ত করিয়ে নিষ্পাপ জীবন ধংস করা হবে?

  1. শিশুর মনোভাব
  2. পিতামাতার মনোভাব
  3. পরিবেশের মনোভাব
  4. শিক্ষকের মনোভাব
  5. ভাই বোনের মনোভাব


মানব জীবনে মনোভাব কিভাবে প্রভাবিত করে?
মানব জীবনে মনোভাব কিভাবে প্রভাবিত






মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে মনোভাবের বিষয়গুলিতে, সঙ্কেতাক্ষরে লেখা সম্পর্কিত তথ্যের বিভাগগুলির ব্যবহার এবং মনোভাব-প্রাসঙ্গিক তথ্যের ব্যাখ্যা, রায় এবং প্রত্যাহার। এই প্রভাবগুলি প্রবলভাবে মনোভাবের জন্য আরও শক্তিশালী হতে থাকে যা অ্যাক্সেসযোগ্য এবং বিস্তৃত সহায়ক জ্ঞান কাঠামোর উপর ভিত্তি করে।

বর্তমানে অর্থনীতির সঙ্গে মানবিক প্রগতির কথা বলা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মানুষের আচরণগত পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছেন। কিন্তু যেটিই বলা হোক না কেন, সেটির প্রয়োগ সমাজ বা রাষ্ট্রে সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

এর কারণ হচ্ছে, এখন যেভাবে উন্নয়নের ধারণা প্রচলিত আছে- তা অনেকটা ম্যাটারিয়ালিস্টিক; যেখানে মানুষের মনকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং ব্যবসায়িক বা কৃত্রিম দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ফলে মানুষের ভেতরে যে ভাবনা সৃষ্টি হওয়ার কথা তা কোনোভাবেই হচ্ছে না। আর ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে না বলে মানবিক যে গুণাবলীগুলো নিয়ে মানুষের বেড়ে উঠার কথা ছিল, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।


অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। নিজের মনোভাব বা মানবীয় গুণাবলী ধারণ করে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠার কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। এ পরিবর্তনের প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রকে কিভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।

এখানে একটি বিষয় বলা যায়, স্বল্পমেয়াদে মানুষের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব গড়ে উঠেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতিবাচক মানবিক ভূমিকা এ ধরনের অবস্থা তৈরি করেছে। যেমন এক্ষেত্রে সততা ও নৈতিকতার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।


একটি কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, এখন মানুষ আর আগের মতো নেই। এখানে মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব যে আগের মতো নেই সেই বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। অথবা অন্যভাবে বলা যায়, মানুষ ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়ে তার যে মানবিক আচরণ করার প্রয়োজন ছিল, তা তার মধ্যে কোনোভাবেই কাজ করছে না। ফলে তার কাছে কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ- তা বিচার করার মানবিক গুণাবলী বজায় থাকছে না।


যেমন অবৈধ উপার্জন যে একটি মন্দ কাজ, মানুষ তা বুঝে উঠতে পারছে না অথবা সেটি বোঝার মতো শক্তি তার থাকলেও সেটি তার মনকে প্রভাবিত করছে না। এ ধরনের অসততাকে সে জীবনের অংশ বলে মনে করছে।

আবার এ অসততাকে গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি তুলে ধরছে। কিন্তু এর দ্বারা যে দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও রাষ্ট্র নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাবকে পরিবর্তন করছে, তা নিয়ে খুব একটা ভাবা হচ্ছে না।


বর্তমান সময়ে মাদকের বিষয়টি সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল হয়েছে। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবেশ করে মানুষের চিন্তাশক্তি ও স্বকীয়তা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেললেও তার মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ও সমাধানের কোনো পরিকল্পনা বা নীতি গ্রহণ করা যাচ্ছে না।


এর কারণ হল মানুষের মনের ভেতর যে সুপ্ত চেতনা রয়েছে, তার প্রকাশ ঘটছে না। অনেকেই মাদককে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করে বরং এটিকে তার ব্যবসায়ের অংশ মনে করছে। তার এ মাদক ব্যবসায়ের কারণে সামাজিক অবক্ষয় যেমন ঘটছে, তেমনি মাদকের ছোবলে তার পরিবারও যে আক্রান্ত হতে পরে- সে বোধশক্তি তার মধ্যে কাজ করছে না।