'শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড' প্রবাদবাক্যটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। আমরা জানি মানুষ লেখাপড়া শিখে বিনয়ী হয়। অন্যের ভালো-মন্দ ও সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়ার জন্য তৎপর থাকে। সমাজ থেকে অশিক্ষা কুশিক্ষা দূর করার চেষ্টা তাদের বিচলিত করে। শিক্ষিত মানুষের কাছে সাধারণ মানুষ এমন কোন অনৈতিক কাজ আশা করে না যা চোর-ডাকাত অশিক্ষিত লোকেরা করে থাকে।
কেন শিশুদের মাথায় ঢুকানো হবে, তাকে বড় হয়ে একটা চাকরি করতে হবে?
নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত সব পরিবেশ সম্পর্কে কেন বাস্তবমুখী শিক্কা হবেনা?
কেন শিক্ষার্থীদের অবাস্তবতায় ঘেরা মুখস্ত বিদ্যায় নির্ভরশীল করা হচ্ছে?
কিন্তু আমরা আজ কী দেখছি? আমাদের চারপাশে ঘুরে ফিরে কোন চিত্র চোখে পড়ে? আমরা কি একশ্রেণীর শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাজ দেখে হতবাক হয়ে যাচ্ছি না? আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের সমাজের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা এমন সব কাজ করছেন যা ভাবাই যায় না এসব কোনো ভদ্র বা শিক্ষিত লোকের কাজ।
কোন কৃষক, শ্রমিক, মজুর অথবা অশিক্ষিত ছোট পেশার লোকদের ঘুুষ নেয়ার সুযোগ নেই। একজন দাগি সন্ত্রাসীকে 'নির্দোষ' বলে রায় দেয়া ও একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আইনের মারপ্যাঁচে অপরাধী বানানোর ক্ষমতাও অশিক্ষিতদের নেই।
![]() |
| শিশু শিক্ষা ব্যাবস্থার ব্যার্থতার কারনগুলো কি কি |
পারমাণবিক অস্ত্রের সাহায্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করা অক্ষরজ্ঞানহীন লোকের কাজ নয়। কুবুদ্ধি আর ষড়যন্ত্রের ফ্যাকরায় বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলোতে স্নায়ুযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার সাধ্য সাধারণ কোনো মানুষের নেই। এসব অপকর্ম করতে পারে শুধু মেধাবী শিক্ষিতরা। জ্ঞানের ভারত্বে তাদের মানবিক চিন্তা এতো নিচু হয়ে গেলে শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হয় কিভাবে?
প্রবাদ বাক্যটি কি তাহলে ভুল? সরাসরি এই কথা বলার দুঃসাহস আমার নেই। আরো একটু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন আমাদের সমস্যাটি কোথায়? শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ Education। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে যার সংজ্ঞা-Training implies a course of educating, preparing and learning, particularly in schools, or universities, to further develop information and foster abilities.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'মানবধর্ম' নামক গ্রন্থে বলেছেন, 'মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্তার পরিচর্যা করে খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টাই হচ্ছে শিক্ষা।' হারম্যান হর্নের মতে, 'শিক্ষা হচ্ছে শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে মুক্ত সচেতন মানবসত্তাকে সৃষ্টিকর্তার সাথে উন্নত যোগসূত্র রচনা করার একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া, যেমনটি প্রমাণিত রয়েছে মানুষের বৃদ্ধিবৃত্তিক, আবেগগত ইচ্ছাশক্তি সম্বন্ধীয় পরিবেশ।' কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবাল বলেছেন, 'মানুষের খুদির বা রূহের উন্নয়নই আসল শিক্ষা।'
একজন শিক্ষার্থী তার ছাত্রজীবন থেকে...
- লোভে পাপ পাপে মৃত্যু
- যেমন কর্ম তেমন ফল
- দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য
- কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর
- সবার উপর মানুষ সত্য তাহার ওপর নাই
- চকচক করলেই সোনা হয় না
- পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
বিষয়ে রচনা, ভাব সম্প্রসারণ, সারাংশ, প্রবন্ধ, নিবন্ধ মুখস্থ করতে অনেক পরিশ্রম করে থাকে। অথচ শিক্ষাজীবন পার হওয়ার পর এসবের কোনো কার্যকর ব্যবহার তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় না।
বরং তারা স্বার্থের লোভে মিথ্যাবাদী, অসৎ, নিষ্ঠুর, দুষ্ট চরিত্রের হতে দ্বিধাবোধ করে না। তারা রাতদিন পরিশ্রম করে Air contamination, sound contamination water contamination, Climate contamination সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান লাভ করেও রাস্তাঘাটে গাড়ির ভ্যাপু জোরে জোরে বাজায়, রিকশাওয়ালা-গাড়ি চালকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে, নিজেদের ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট দিয়ে পরিবেশ নোংরা করে। তারা smoking, psychological oppression, Draug enslavement এর বিরুদ্ধে যথেষ্ট সময় ব্যয় করে মুখস্থ করে কিন্তু ছাত্রজীবন শেষ না হতেই সিগারেট টানা ও চাঁদাবাজির দৃশ্য দেখলে আশ্চর্য হতে হয়। তারা শুধু এমনটি করেই ক্ষান্ত হয় না বরং শিক্ষক লাঞ্ছিত, মেয়েদের উত্ত্যক্ত, শিক্ষাবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য ও সহপাঠী হত্যা করতেও কিছু মনে করে না। এমনকি রাজনৈতিক দলের অন্ধ আনুগত্য করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করে।
এরা শিক্ষা নামক মূল্যবান সম্পদটিকে কলঙ্কের ছাপ লেপন করিয়েছে। সম্প্রতি নয়ন বন্ড গ্রুপের রিফাত হত্যা, এর আগে বদরুল কর্তৃক খাদিজাকে কোপানো, ছাত্রলীগ কর্তৃক বিশ্বজিৎ হত্যার দৃশ্য বিশ্ববিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। এইসব কিছুই ভিডিও হয়েছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের চোখের অগোচরে কত যে দুর্ঘটনা ঘটছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। একটি সমাজের অর্থনীতি উন্নত হলে বা শিল্পের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পরিচয় বহন করে। তার মানে সমাজের সবকিছু ঠিক আছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে সমাজে বসবাসরত মানুষের মধ্যে মানবিক চেতনা জাগ্রত হয়েছে কিনা; সামাজিক মূল্যবোধ শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে কিনা; সমাজের বখাটেদের উৎপাত বন্ধসহ সর্বোপরি মানবিক বোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে উঠেছে কিনা এদিকগুলো অবশ্যই ভাবার বিষয়।
আমাদের সমাজ কতটা এগিয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের চোখে সামাজিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ দিকগুলো চোখে ভেসে আসে। এরা শিক্ষা নামক মূল্যবান সম্পদটিকে কলঙ্কের ছাপ লেপন করিয়েছে।
সম্প্রতি নয়ন বন্ড গ্রুপের রিফাত হত্যা, এর আগে বদরুল কর্তৃক খাদিজাকে কোপানো, ছাত্রলীগ কর্তৃক বিশ্বজিৎ হত্যার দৃশ্য বিশ্ববিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। এইসব কিছুই ভিডিও হয়েছে বলে আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের চোখের অগোচরে কত যে দুর্ঘটনা ঘটছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
একটি সমাজের অর্থনীতি উন্নত হলে বা শিল্পের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পরিচয় বহন করে। তার মানে সমাজের সবকিছু ঠিক আছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে সমাজে বসবাসরত মানুষের মধ্যে মানবিক চেতনা জাগ্রত হয়েছে কিনা; সামাজিক মূল্যবোধ শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে কিনা; সমাজের বখাটেদের উৎপাত বন্ধসহ সর্বোপরি মানবিক বোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে উঠেছে কিনা এদিকগুলো অবশ্যই ভাবার বিষয়।
আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা যতই খোদাভীরু ও ধর্মপ্রাণ হওয়ার অনুপ্রেরণা দান করুক, বাস্তব জীবনে বস্তুগত প্রয়োজনের তাগিদ তাকে ঈমানের বিপরীত পথে যেতে বাধ্য করে। তাই এই প্রকার শিক্ষাও মানুষের স্বভাবের বিপরীত। তাই যে শিক্ষা মানুষের আত্মা ও দেহকে এক সুন্দর সামঞ্জস্যময় পরিণতিতে পৌঁছিয়ে এ জগতের রূপ-রস-গন্ধকে নৈতিকতার সীমার মধ্যে উপভোগ করার যোগ্যতা দান করে, সেই শিক্ষাই মানুষের প্রকৃত শিক্ষা। যে শিক্ষা প্রাকৃতিক শক্তিসমূহকে মানবতার উন্নতি ও নৈতিকতার বিকাশে প্রয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাই মানুষের উপযোগী শিক্ষা। আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উন্নতি দান করা সত্ত্বেও যে শিক্ষা মনুষ্যত্ব ও আত্মার উন্নতিকে ব্যাহত করে তা প্রকৃতপক্ষে মানব-ধ্বংসী শিক্ষা, তাকে কিছুতেই মানুষের উপযোগী শিক্ষা বলা চলে না।'
দেশের বড় বড় বিদ্যাপীঠ থেকে যারা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে DC, SP, SI, Officer, Promoter, শিক্ষাবিদ, সচিব, চিন্তাবিদ, মানবাধিকারকর্মী হয় তাদের দুর্ব্যবহারে রিকশাচালক, দিনমজুর অথবা বাবার বয়সী মুরুব্বিদের বোবাকান্না শোনা যায়। আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক যুগে মুুরুব্বিদের সম্মান প্রদর্শন করার চিন্তায় যেন ঘুণ পোকা ধরেছে। এসব Present day কিংবা Altra Current Human progress এর লোকজন Love Marraige করলেও দাম্পত্য জীবনে নীরব ঘাতকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এসব কিছুর মূলে রয়েছে আমাদের চরম ব্যর্থতা আর কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র। আমরা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার সাথে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করতে পারিনি। তাই নৈতিকতার চরম অবক্ষয় থাকা সত্ত্বেও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রদের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছে। যারা বাস্তবিক অযোগ্য ও অনৈতিক চরিত্রের অধিকারী। ফলে তারা মানুষের কল্যাণের বিপরীতে অকল্যাণ সাধন করছে।
