তাত্ত্বিক কারণগুলো ছাড়াও আরো অনেক কারণে মানুষ অপরাধমূলক কাজ বা আচরণ করতে পারে।
ভৌগোলিক পরিবেশ
সমাজ জীবনে ভৌগোলিক
পরিবেশের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মরু এবং গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ বদমেজাজি
এবং নিষ্ঠুর হয়ে থাকে। গহীন অরণ্য, পাহাড়ণ্ড পর্বত ইত্যাদি দুর্গম এলাকা অপরাধের
স্বর্গরাজ্য। কেননাএখানে কার্যকরভাবে প্রশাসনিক তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়। আবার চরাঞ্চলে
দস্যুতা, দাঙ্গা, রক্তপাত নিত্যদিনের ঘটনা। সুতরাং ভৌগোলিক প্রভাবে অপরাধপ্রবণতার হ্রাসণ্ড
বৃদ্ধি ঘটে।
পারিবারিক কারণ
পিতাণ্ড মাতার মধ্যে
কলহ, অশান্তি, দূরত্ব, পৃথক আবাসন, তালাক ইত্যাদি সংশিস্নষ্ট পরিবারের ছেলেণ্ড মেয়েদেরকে
অপরাধী করে তুলতে পারে। ¯্নহেণ্ড ভালোবাসার অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, নিঃসঙ্গতা, হতাশা
কিংবা পিতাণ্ড মাতার উগ্রতাণ্ড উশৃঙ্খলতা সন্তানদেরকে অপরাধ জগতে ঠেলে দেয়। পিতাণ্ড
মাতা, বড়ভাই বা নিকটাত¥ীয়দের কেউ অপরাধ জগতের সাথে যুক্ত থাকলে তাদের প্রভাবে অনেকে
অপরাধ জগতে প্রবেশ করে।
ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণ
পরিবার ছাড়াও স্কুলণ্ড
কলেজ, খেলার মাঠ তথা বন্ধুবান্ধবের প্রভাবে অনেক সময় মানুষ অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ে।
অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে অপরাধে লিপ্ত হয়। কোনো শান্ত প্রকৃতির ছেলে যদি উচ্ছৃঙ্খল
বন্ধুণ্ড বান্ধবের সাথে মেলাণ্ড মেশা করে তবে তার নৈতিকতায় পরিবর্তন আসতে বাধ্য। অপরাধপ্রবণ
পরিবেশ এবং ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণের ফলেই অনেকে অপরাধী হয়ে উঠে।
সুস্থ বিনোদনের অভাব
মানুষ খেলাধুলা এবং
হাসিণ্ড আনন্দে থাকলে তাদের মন¯ত্মাত্ত্বিক বিকাশ সুন্দর ও স্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন
হয়। নানা কারণে খেলার মাঠসহ সুস্থ বিনোদন ক্ষেত্রকে ক্রমশ দুর্লভ করে তুলছে। অন্যদিকে
টেলিভিশন, সিনেমা, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ফেসবুক, গেমস ছেলেণ্ড মেয়েদেরকে খেলার মাঠ
বিমুখ করে তুলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের অশস্নীল, সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ বিনোদন তরুণদেরকে
যৌনতা, ভায়োলেন্স, হিংস্রতাসহ নানা অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গণমাধ্যমের প্রভাব
পাশ্চাত্য সমাজে কিশোর অপরাধীদের একটি বড়ো অংশ টিভি-সিনেমার ভায়োলেন্স দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অপরাধে লিপ্ত হয়। খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজী, মাস্তানি ইত্যাদি খবর গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করার ফলে অন্যরা এর থেকে উৎসাহিত হয়। সিনেমায় অশস্নীল দৃশ্য দেখে অনেকে যৌন অপরাধ, খুন-খারাবি দেখে সন্ত্রাস করতে উদ্বুদ্ধ হয়।
বিচারালয় ও জেলখানার
ত্রুটি
অপরাধীদের শাস্তিবিধান
ও অবস্থানের বাহন হচ্ছে বিচারালয় ও জেলখানা। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা, আইনের
মারপ্যাচ, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে অনেক সময় অপরাধী যেমন শাস্তি থেকে রেহাই পায়, আবার
নিরপরাধ ব্যক্তির শাস্তি প্রাপ্তির মত ঘটনাও ঘটে। প্রমাণ ও যথাযথ কার্যক্রমের অভাবে
কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পায় এবং অপরাধ কার্যক্রমে দ্বিগুণ উৎসাহে সম্পৃক্ত
হয়। জেলখানায় আত্মশুদ্ধির পরিবর্তে
রাজনৈতিক ও সরকারি
প্রশ্রয়
চাঁদাবাজী, মাস্তানি,
ছিনতাইসহ যে কোনা অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রণ্ড
ছায়ায় তাদের কুণ্ড কর্ম সম্পন্ন করে। চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, অপহরণ, মুক্তিপণ ইত্যাদি
বিষয়ের সাথে যুক্ত প্রায় সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য। শীর্ষ
সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ বা অন্য কোনো অপরাধীদের উত্থানে রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা
এক অনিবার্য বাস্তবতা।
