শিশু অপরাধ ও প্রতিরোধ

  • অপরাধ প্রবণতা প্রতিকারের ক্ষেত্র প্রধান কয়েকটি উপায় হচ্ছে:
  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
  • সংশোধনমূলক ব্যবস্থা
  • শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
  • সচেতনতামূলক ব্যবস্থা
  • প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ইতিবাচক উপায়সমূহ


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রধানত কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর। এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্তকার্যক্রমগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • পরিকল্পিত সুখী পরিবার গঠন। পরিবারকেই বিনোদন, আস্থা ও নিরাপত্তার মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
  • পারিবারিক অশান্তি, দ্বন্দ্বণ্ড কলহ পরিহার করা, একসাথে আনন্দণ্ড বেদনা ভাগাভাগি করা, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে সন্তানাদিসহ পরিবারকে সময় দেয়া।
  • শিশুণ্ড কিশোরদের লালনণ্ড পালন এবং মননশীলতা বিকাশে সমাজে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।
  • সুস্থ ও গঠনমূলক চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনন্দময় পরিবেশে উৎপাদনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা।
  • আইনণ্ড শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।
  • সবাইকে মানবিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
  • আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।


সংশোধনমূলক ব্যবস্থা

অপরাধ প্রতিকারের উপায় হিসেবে কিশোর অপরাধীদের সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর অপরাধ সংশোধনে নি¤্নােক্ত ব্যবস্থাসমূহ অধিকতর কার্যকর বলে মনীষীরা মনে করেন।

কিশোর আদালত: 

কিশোর অপরাধীর প্রতি আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিশোর আদালত পরিচালিত হয়। প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে কিশোর অপরাধীকে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে সাহায্য করা হয়।

কিশোর হাজত: 

দাগী অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ধৃত কিশোর অপরাধীদেরকে কিশোর হাজতে রাখা হয়। কিশোর হাজতও সংশোধনমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে তোলা হয়।

সংশোধনী প্রতিষ্ঠান: 

কিশোর অপরাধীদের উপার্জনক্ষম ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে সংশোধনী প্রতিষ্ঠান। সংশোধনী বা উন্নয়ন কেন্দ্রে অপরাধী কিশোরদের নিয়মিত শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে সক্ষম করে তোলা হয়।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মূলত বয়স্ক অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য। প্রমাণিত হলে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে পেনাল কোডের ধারা মোতাবেক শাস্তি নিশ্চিত করাই আইনের শাসন। এতে অপরাধী নিজে যেমন নিয়ন্ত্রিত হয়, তেমনি সমাজের সাধারণ মানুষও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে। আমাদের দেশ বা সমাজে নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়। 

যেমন—অপরাধ প্রতিকারের জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। যেমন: সামাজিক আন্দোলন, অপরাধীদের আশ্রয়ণ্ড প্রশ্রয়দান থেকে বিরত থাকা, দুর্নীতি রোধ এবং আইনের শাসন নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে সচেনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।


শেষকথা

সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, অপরাধমুক্ত কোনো সমাজ নেই। সব সময় সব সমাজে কম-বেশি অপরাধ ছিল, থাকবে। যে সমাজ যতখানি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সে সমাজ ততখানি শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।