মনোভাবে ভেদাভেদ কি ব্যাধি?

সমাজে বিভিন্ন বর্গের মানুষজনের মধ্যে নানান ধরনের বিভাজন থাকে বলে বিজ্ঞানীর লক্ষ্য করেছেন। যেমন নারী পুরুষের মধ্যে বিজ্ঞান, ধনী-গরিবের মধ্যকার বিজ্ঞানে ইত্যাদি। কখনো কখনো এই বিভাজন কেবলমাত্র সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্যের পার্থক্য তৈরি করে। অর্থাৎ কে কি করবেন, কার কি দায়িত্ব এই ভাবনা থেকে বিভাজন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, এই সকল বিভাজনের মধ্য দিয়ে বৈষম্য বা অসমতা কাজ করছে। তার মানে হচ্ছে। ক্ষমতা, কিংবা মর্যাদা ইত্যাদি ব্যাপারে ফারাক তৈরি হচ্ছে। নৃবিজ্ঞানীদের অনেকে মনে করেছেন যে, বৈষম্য আধুনিক সমাজে কম।

বিবর্তন মনোভাবে ভেদাভেদ বিভাজন
বিবর্তন মনোভাবে ভেদাভেদ বিভাজন

কিন্তু নানারকম গবেষণায় এটা এখন প্রমাণিত যে এই ধারণা সঠিক নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সামাজিক অসমতা নানা রকম ভাবে ক্রিয়াশীল আছে। যেটা লক্ষ্য রাখতে হবে তা হ'ল। ভাগ করা মানেই সবক্ষেত্রে বৈষম্য বা এক নল কর্তৃক অন্যকে নিপীড়ন করা নয়। কোন সমাজ বয়সে বড় ছোট মেনে চলে বলেই এই না যে সেখানে বড়রা ছোটদের উপর নিয়ন্ত্রণ বা নির্যাতন কারেন করে থাকেন। 

মোট ৫ ধরনের বিভাজন নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে: 

১। লিঙ্গের ভিত্তিতে বিভাজন

২। বয়সের ভিত্তিতে বিভাজন

৩। পদমর্যাদা-ভেদাভেদ 

৪। জাতিবর্ণ স্তরবিভাজন

৫।  শ্রেণী বিভাজন


সামাজিক অসমতার প্রধান কারণ কি?
সামাজিক অসমতার প্রধান অর্থনৈতিক বৈষম্য।

সামাজিক বৈষম্যের উৎপত্তি 
উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলি সহ যেকোনও সংখ্যক বৈচিত্র্য, কিন্তু শিক্ষা, সামাজিক শ্রেণী, রাজনৈতিক অনুষঙ্গ, বিশ্বাস বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বৈষম্যমূলক আচরণের দিকে পরিচালিত করতে পারে, বিশেষ করে যাদের হাতে ক্ষমতার একটি ডিগ্রি থাকতে পারে।

সামাজিক অসমতার প্রভাব
তাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে অসমতা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যাগুলির একটি বিস্তৃত পরিসরের কারণ, যার মধ্যে আয়ু হ্রাস এবং উচ্চতর শিশুমৃত্যু থেকে দুর্বল শিক্ষা অর্জন, নিম্ন সামাজিক গতিশীলতা এবং সহিংসতা এবং মানসিক অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি।

অসমতা দারিদ্র্যকে কিভাবে প্রভাবিত করে
এর ফলে 'অসম অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগের আন্তঃপ্রজন্মীয় সংক্রমণ, দারিদ্র্যের ফাঁদ তৈরি করে, মানুষের সম্ভাবনা নষ্ট করে, এবং এর ফলে কম গতিশীল, কম সৃজনশীল সমাজ। বৈষম্য সমাজের প্রায় সকলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দারিদ্র্য ও অসমতার মধ্যে পার্থক্য কি
বৈষম্য দারিদ্র্যের চেয়ে একটি বিস্তৃত ধারণা । এটি একটি সম্পূর্ণ জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে সংজ্ঞায়িত করা হয়, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দারিদ্র্যসীমার নিচের অংশ নয়। বেশিরভাগ অসমতার পরিমাপ বিতরণের গড় উপর নির্ভর করে না।

দারিদ্র্য ও অসমতা দূরীকরণের গুরুত্ব
ক্রমবর্ধমান বৈষম্য টেকসই উন্নয়নকে বাধা দেয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস করে এবং সমাজের মধ্যে সামাজিক সংহতি নষ্ট করে । এখন একটি আন্তর্জাতিক ঐকমত্য রয়েছে যে 2030 সালের মধ্যে দারিদ্র্যের অবসান ঘটাতে বৈষম্য হ্রাস করা অপরিহার্য।

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র এবং লিঙ্গ বৈষম্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক ও নারী নেত্রী রোকেয়া কবির।

সোমবার রাজধানীর শাহবাগে সাউথ এশিয়া অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপে) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় লিঙ্গ ভিত্তিক মজুরির পার্থক্য সবচেয়ে প্রকট এবং এখানে লিঙ্গ

ভিত্তিক শ্রমে নিযুক্ত পরিমাণেও পার্থক্য অনেক বেশি। এই পার্থক্য দিন দিন বেড়েই চলছে। মানববন্ধনে জানানো হয়, আইএলও-এর 'ওমেন এট ওয়ার্ক: ট্রেন্ডস ২০১৬' প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশে কমে এসেছে।

বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষের চেয়ে ২৪ শতাংশ কম মজুরি পেয়ে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্তানের মা হয়েছেন এমন নারীরা পুরুষের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম এবং সন্তানের মা নন এমন নারীরা পুরুষের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম মজুরি পেয়ে থাকেন। স্বল্প সংখ্যক ক্ষমতাবানের হাতে সম্পদ ও ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ায় এ ধরনের বৈষম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে।

বৈষম্য মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এবং অন্যান্য দেশের সরকারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আটটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হচ্ছে, ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা যা নারীদের জন্য বৈষম্য ও শোষণমূলক নয়, দেশীয় কর রাজস্ব সচল করা এবং ধনী ব্যক্তি ও কোম্পানির প্রতি অন্যায্য কর ছাড় বন্ধ করা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পুনর্জীবিত করার জন্য বিনিয়োগ করা, শ্রমিক অধিকারগুলো আমাদের অর্থনৈতিক মডেলের ভিত্তিরূপে স্থাপন করা, ক্ষতিগ্রস্থ আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু বিপর্যয় রোধ এবং জীবননাশী জ্বালানির অযৌক্তিক প্রভাব দূর করা, নারী ও ক্ষুদ্র কৃষকের ক্ষমতায়নে নিশ্চিত। করা এবং বৈষম্যের পরিবেশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশীল সমাজের মুক্তচিন্তা স্থান নিশ্চিত করা।