শিক্ষাব্যবস্থার উদাসীনতার কথা বলতে হলে বেশ কয়েকটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য।
![]() |
biborton.bangla /শিক্ষা ও উদাসিনতা |
শিক্ষার মান:
শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলতে হলে প্রথমে আমরা যে বিষয়টি উল্লেখ করব বিশ্ব শিক্ষাব্যবস্থার সাথে আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে তা যুগের তুলনায় বেশ নিম্নমানের যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের চেয়ে অন্যের সাথে পারিপার্শ্বিক, আর্থিক, সামাজিক এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রতিদ্বন্দিতার এক কাল্পনিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। আমরা স্কুলের টিফিন থেকে শুরু করে পারিবারিক অবস্থান তথা উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ইত্যাদি বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে। শিক্ষাকে বুকে ধারণ না করে, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষাকে প্রাধান্য না দিয়ে লোভ, হিংসা ও অহংকার ইত্যাদি বিষয়ের দিকে ধাবিত করে যা আমাদের পরবর্তী সময়ে নিজের মান বা শিক্ষার মান প্রমানে ব্যার্থ হই যা যৌবন বা কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠে।
শিক্ষকের মান:
শিক্ষকের মানেই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। শিক্ষার মানদণ্ডটা মূলত শিক্ষকদের উপরে নির্ভর করে। সেখানে দেশের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শিক্ষকরাই নিজেদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের উন্নত ও শিক্ষিত লোকেদের যখন শিক্ষকের আসনে বসা উচিত তখন তারা সে আসনে বসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে কারণ শিক্ষকদের আয় কম বলে। আর শিক্ষকেরা আসনে যারা বসে আছেন তাদের বেশিরভাগই রাজনীতি, কোচিং বাণিজ্য ও অন্যান্য অনৈতিক বিষয়ের সাথে জড়িত যা কখনো শিক্ষার মান এবং ব্যবস্থার সাথে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষনীয় বিষয় নয়। এই বৃহৎ প্রভাব শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দুর্বল ও অনৈতিক মনোভাব নিয়ে গড়ে তুলে।
শিক্ষা ব্যবস্থা:
আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা কোনভাবেই যুগোপযোগী নয়। প্রায় প্রতিবছরই। শিক্ষার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আসে। নৈতিক শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান মূল্যবোধ। এই সকল বিষয়গুলোতে। যথা উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব। ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা। মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী পশু হিসেবে বিবেচিত হতে পারেনি বিশেষ করে। নৈতিক শিক্ষার উন্নতি না হওয়ার কারণে। আমাদের সামাজিক ও। শিক্ষাগতভাবে খুব একটা উন্নতি। উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারছে না।
শিক্ষার পটভূমি:
শিক্ষা ফলপ্রসূ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শিক্ষায় আনন্দ থাকতে হবে। তাহলে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে সব্দিচ্ছা অনুভব করব। কিন্তু আমাদের দেশের কথা বিবেচনা করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঘর পর্যন্ত সকলেই এক প্রকার শারীরিক বা মানসিক প্রহারের মাধ্যমে শিক্ষাদানের চেষ্টা করে থাকেন। এ ধরনের পটভূমি থেকে না জাতি বা দেশ, না কোন ছাত্র-ছাত্রী সঠিকভাবে তার শিক্ষাকে মূল্যায়িত করতে পারবে। শিক্ষা ভীতি কখনোই ভাল ফলাফল দিতে পারেনা। তাই আমাদের সকলকে এ ধরনের ভুল শিক্ষার পটভূমি পরিহার করতে সচেষ্ট থাকা উচিত।
নৈতিক শিক্ষা:
জাতি হিসেবে শিক্ষায় আমাদের সবচেয়ে বেশি উন্নতি করতে হবে এই জায়গায়। নৈতিকভাবে আমাদের চরম অধঃপতন হয়েছে। মূল্যবোধের যা ইচ্ছা তা অবস্থা। সবাই মুখোশ ধারণ করেছে ভালো মানুষের। অথচ মনোভাবের পরীক্ষা করা হলে। প্রায় সকলেই। নৈতিক জ্ঞান শূন্য বলে বিবেচিত হয়। প্রমাণ পাই আমরা। রাজনৈতিক ক্ষেত্র। শিক্ষা ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্র জিৎ মসজিদ মাদ্রাসা প্রায় সব স্তরে। মূল সমস্যা একটাই। সেটা হল আমাদেরকে জাতীয়ভাবে। প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে। নৈতিকতা মনোভাব মূল্যবোধ। মূল্যায়ন ছবিগুলোর উপর অনেক ভালোভাবে। শিক্ষা দিতে হবে।
মূল্যবোধ:
আমরা মূল্যবোধহীন, জ্ঞানহীন জাতিতে পরিণত হয়েছি। আমরা শুধুমাত্র নিজের চিন্তা ছাড়া আর অন্য কোন চিন্তাই করতে পারিনা। শুধু নিজের চাওয়া পাওয়াটাই সবার প্রথমে দেখি। মানুষ হিসেবে এটা ঠিক। কিন্তু সব সময় সবার আগে শুধু নিজেকে বিবেচনা করা কখনোই ঠিক নয়। নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য শৈশব থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করেছি তার মধ্যে নৈতিকতার অভাব থাকার কারণে বর্তমান সময়ে আমরা সঠিকভাবে ভালো মন-মানসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। বেসিক বলে যে কথাটি আছে মানুষের জীবনে তা শৈশবে সঠিকভাবে না পাওয়ার কারণেই বাস্তব ক্ষেত্রে সঠিক প্রয়োগ করতে পারছি না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে মূল্যবোধ সম্পর্কে আমাদেরকে গভীর শিক্ষা দেয়া উচিত।
বাস্তবতার নিরিখে শিক্ষা:
আমাদের জাতিগতভাবে সমস্যার অন্যতম একটি বিষয় হলো এটি। কারণ আমরা কখনো বুঝতে পারিনা, উপলব্ধি করতে পারিনা কোন বিষয়ের উপর শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে চাই এবং কাজ করতে চাই। শিক্ষা নেই এক বিষয়ে আর কাজ করি অন্য বিষয়ে। আমাদেরকে শিক্ষা দিতে পুরোপুরিভাবেই শিক্ষকরা ব্যর্থ। সেই শিশু বয়স থেকে সবাই একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হয় স্কুলে কিংবা পারিবারিকভাবে বড় হয়ে শিশুটি কি হবে? ডাক্তার? ইঞ্জিনিয়ার? পুলিশ? পাইলট? কি হবে? সবচেয়ে বড় ভুলটা ঠিক এই জায়গায়। শিশুর লক্ষ্য আগে থেকে আমাদের ঠিক করে দেয়ার যে ভুল কৌশলটি আমরা অবলম্বন করি সেটা আসলে আমাদের নিজের আবিষ্কারের যে মনোভাব বা নিজের কিছু করার যে ইচ্ছাটা থাকে তার যে বহি:প্রকাশ হওয়ার কথা সেটা নস্ট করে দেয়। আগে থেকেই জিজ্ঞেস করা, চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তকে বাস্তবতায় রুপ দিতে গিয়ে মূলত নিজের যে সুখী চিন্তাধারা থাকার কথা ছিল সেটার বাস্তবায়ন ঘটাতে ব্যর্থ হই। এতে করে দেখা যায় আমরা জাতিগতভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছি প্রায় সব ক্ষেত্রেই।
তাই আমাদের ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাটা গ্রহণ করতে হবে আগে। একজন সঠিক মূল্যবোধ সম্বলিত ব্যক্তি তার নৈতিকতা দিয়ে, মনের ইচ্ছা শক্তি দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। শিক্ষাই যে মূল চালিকাশক্তি হবে এটা কখনো প্রমাণ করে না। এটা একটা নির্দিষ্ট স্থানে পৌছাতে সাহায্য করে। শিক্ষা নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত যাওয়া নিশ্চিত করলেও সর্বোচ্চ অবস্থান তৈরি করা কিংবা নতুন কিছুর আবিষ্কার করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই আমাদেরকে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানসিক দৃঢ়তাবিষয়গুলোকে চর্চা করে নিজের লক্ষ্যের পিছনে ছুটে যেতে হবে। তবেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। হবে দেশের পরিবর্তন ও জাতির পরিবর্তন।
