তাকদির কি? আল্লাহ কিসের বিচার করবেন?

এটা ধর্মের ব্যাপারে, মানব ইতিহাসে সবচেয়ে পুরাতন প্রশ্ন। সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হয় ; আল্লাহ আমাদের ভাগ্য নির্ধারন করে রেখেছেন। তাহলে আবার বিচার কেন? প্রশ্নকারী শিক্ষিত বলেই, একটু ব্যাতিক্রমী ভাষায় লিখতে পেরেছেন। কিন্তু ঘুরে-ফিরে এটা সেই একই পুরাতন ও বস্তাপচা প্রশ্ন - তকদির নির্ধারিত থাকলে, আবার বিচার কেন?

তাকদির
তাকদির

যুগে যুগে মানুষের মনে এই প্রশ্নটি আসার কারন হলো - তকদির (ভাগ্য) জিনিসটা বোঝে না।

প্রযুক্তির এই যুগে, বিষয়টা খুব সহজেই বোঝা যায়। কম্পিউটার বা মোবাইললের গেম আপনারা সবাই দেখেছেন। আপনার নিজের মোবাইলে, নিজের আনন্দে গেম খেলেন। সেই গেম খেলে জিতেন নাকি হারেন, সেটা আপনার নিজের যোগ্যতা। গেমটা পুরোপুরি আপনার নিজের ইচ্ছায় খেলেন। সেই গেমের ফলাফল, দোষ-গুন, লাভ-ক্ষতি, সবকিছুই আপনার। সবই আপনার নিজের ইচ্ছায় ও চেস্টায় হয়।


বিষয়টা বুঝুন - ওই গেমের মধ্যে আপনি নিজের ইচ্ছায় যাই করেন না কেন, আপনি সবসময়ই ওই গেম নির্মাতার বানানো সীমাবদ্ধতার ভেতরে আছে। গেমের মধ্যে কোন অংশে আপনি কি করতে পারেন, সেগুলোর জন্য ওই গেম নির্মাতা হাজার লাইন কম্পিউটার কোডে লিখে রেখেছে। সেটাই ওই গেম এর তকদীর। আপনি যতকিছুই করেন না কেন, ওই গেম নির্মাতার বানানো সিমাবদ্ধতার বাইরে যেতে পারবেন না।


লক্ষ্য করুন - মানুষের বানানো একটি গেম এর মধ্যেই এমন ব্যাবস্থা আছে যে - গেমের একটি তকদীর আছে, তবুও আপনি নিজের ইচ্ছায় ও চেস্টায় গেম খেলে হারতে বা জিততে পারেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহর জন্য এটা খুবই সহজ বিষয়।


দুনিয়াটাও আল্লাহর সৃষ্টি করা একটি গেম এর মতন। দুনিয়াতে আপনি কি কি করতে পারেন, আল্লাহ সেটার জন্য একটি নির্ধারিত ভবিষ্যত ও সীমাবদ্ধতা বানিয়েছেন। আপনি সেই সীমাবদ্ধতার ভেতরে থেকেই নিজের ইচ্ছায় ও চেষ্টায় পাপ-পুন্য করবেন। গেম এর মধ্যে হার-জিত এর দোষ গুন আপনার। ঠিক তেমনই দুনিয়ার পাপ-পুন্যের দোষ গুন আপনার