শিশু সুরক্ষায় করনীয় কি কি?
![]() |
| শিশু সুরক্ষায় করনীয় কি কি |
বয়স, প্রতিবন্ধকতা, লিঙ্গ, নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, ধর্মবিশ্বাস, যৌন অভিমত নির্বিশেষে সকল শিশুর সব ধরণের অনিষ্টতা ও সহিংসতা থেকে নিরাপদ থাকার সমান অধিকার আছে।
তরুণদের কল্যাণকে উন্নীত করতে হলে শিশু, তরুণ, তাদের বাবা-মা, অভিভাবক এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাসমূহের সাথে অংশীদার হয়ে কাজ করাটা অপরিহার্য।
এ লক্ষে ১৯৭৪ সালে শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অধিকার প্রতিষ্ঠারলক্ষে প্রণীত হয় "শিশু আইন ১৯৭৪"।পরবর্তীতে, শিশু আইন, ২০১৩( ২০১৩ সনের ২৪ নং আইন )যেহেতু জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হইয়াছে; এবং উক্ত সনদ এর বিধানাবলী বাস্তবায়নের নিমিত্ত বিদ্যমান শিশু আইন রহিতপূর্বক উহা পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করিবার লক্ষ্যে একটি নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলে নতুন এই আইন করা হয়।
শিশুদের নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।কোথাও শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া যায় না। এতে শিশুটির অধিকার ও নিরাপত্তা বিঘিত হয় অনেক ক্ষেত্রে।
শিশু সুরক্ষায় আবশ্যিক করনীয়
- শিশুর সুরক্ষায় জাতীয় শিশু সুরক্ষা ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন
- শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা
- বেসরকারি সংগঠন, মিডিয়া ও জনগণের সমন্বয়ের আলোচনা-পরামর্শ দিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও অধিকারপূর্ণ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
- শিশুবিষয়ক অধিদফতর বা বিভাগ হলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি বেসরকারি দফতরগুলোর সাথে সমন্বয়ের কাজ করতে পারবে।
- আইনের বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করে গবেষণা, জরিপ, বিভিন্নজনের মতামত ইত্যাদি নিয়ে সরকারের কাছে শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন সুপারিশ করতে পারবে।
- কঠোর আইনী নিরাপত্তা, বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ রাষ্ট্রস্বীকৃত সব অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। আর সেগুলো হতে হবে বৈষম্যহীন।
মা ও শিশু অঙ্গাঙ্গী জড়িত।
মায়ের অধিকার সুরক্ষা হলে, শিশুর অধিকার অনেকাংশে রক্ষা পায়।একজন গর্ভবতী মা গর্ভাবস্থায় তার অধিকারগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পেলে, জন্মের আগে থেকেই অনাগত শিশুও তার অধিকার ও সুরক্ষা পেয়ে যায়।তাই শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সবার আগে পরিবারটিকেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে শিশুশ্রম ও মাদককে চিরতরে 'না' বলতে হবে।
ইভটিজিং, যৌন হয়রানি আর অশিক্ষাকে কঠোর হাতে দমন করতে হয়।তাই এ ক্ষেত্রে সমাজ, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বশীল লোকদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারি-
- বেসরকারি দফতরগুলো, গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করা যেতে পারে।
- বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রে, শিশুদের অধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে।
- অভিভাবকের সচেতনতার বিষয়টি শিশুদের অর্থবহ সুরক্ষার পূর্বশর্ত।
শিশু সুরক্ষা একটি বহুমুখী ধারণা।
যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘন থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য সামাজিক কর্তব্য।
দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করায় আমাদের শিশুদের একটি বিশাল সংখ্যা বেড়ে উঠছে দারিদ্র্যের ভেতর।এ শিশুরা তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত।খেলাধুলায় সুরক্ষা:
শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খেলাধুলায় বিশেষ কিছু ঝুঁকি রয়েছে, যারমধ্যে রয়েছে কমবয়স্ক খেলোয়ারদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের অসদ্ব্যবহারের ঝুঁকি বদ্ৃধি পাওয়া।
বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আয়োজিত খেলাধুলাগুলোতে অত্যন্ত নাজুক শিশুদের সুযোগ দেয়া হয় যারা প্রাত্যহিক জীবনে সহিংসতা ও অসদ্ব্যবহারের সম্মুখীন হয় এবং তাদের জন্য খেলাধুলা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত।
এই শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা যেন একটি নিরাপদ পরিবেশে হয় তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
শিশু অধিকার কয়টি?
শিশুরা বিশেষ মানবাধিকারের মধ্যে রয়েছে, অন্যান্য অধিকারের মধ্যে, বেঁচে থাকার অধিকার, একটি নামের অধিকার, শিশু সংক্রান্ত বিষয়ে তার মত প্রকাশের অধিকার, চিন্তার স্বাধীনতার অধিকার, বিবেক এবং ধর্মের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, অর্থনৈতিক ও যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষার অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার ।
