সর্বাবস্থায় শিক্ষকের চেহারায় ৩টি চিত্র প্রস্ফুটিত হওয়া দরকার :
(১) (সোহাগ) : যাহাদিগকে কুরআনে কারীমের সহিত পরিচয় করাইবার জন্য
তা'লীমের কাজে আত্মনিয়োগ করিয়াছেন, আপনি তাহাদের সামনে নিজেকে। এমনভাবে পেশ করিবেন যাহাতে তাহারা যেনো মনে করে সত্যিই আপনি তাহাদের স্নেহ করেন ও ভালবাসেন।
(২) (গুরুত্ব) : আপনি যে বিষয়ে তাহাদিগকে তা'লীম দিতে আসিয়াছেন আপনার চেহারার মধ্যে তাহা যেনো গুরুত্ব সহকারে ফুটিয়া উঠে।
(৩) (প্রভাব) : আপনি নিজেকে তাহাদের সম্মুখে এমনভাবে পেশ করিবেন যেনো তাহারা আপনাকে দেখামাত্র সজিব হইয়া উঠে এবং আপন আপন কাজের প্রতি মনোযোগী হয়।
![]() |
| শিক্ষকের গুনাগুন |
শিক্ষকগণ নিজেদেরকে একজন কুরআনের খাদেম হিসাবে সবসময় 'দা'য়ী ইলাল্লাহ্' অর্থাৎ আল্লাহ্র পথে আহ্বানকারী বলিয়া মনে করিবেন। নিজের জীবনের-যাবতীয় কাজকর্ম, চলাফেরা, উঠা-বসা, লেবাস-পোশাক, লেন-দেন তথা সমস্ত ব্যাপারে সুন্নাতে নবুবীর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখিবেন। দীনের খাতিরে সাধারণ মানুষের সমস্ত জায়েয সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকিয়া একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে তৈরি রাখিবেন। সব সময় দায়িমী সুন্নাতগুলি পুরাপুরি আমলী জিন্দেগীতে আনিবার চেষ্টা করিবেন।
যেমন : সব সময় মাথায় টুপি রাখা, দাড়িকে পরিপাটি রাখা, চুলগুলি সুন্নাতানুযায়ী রাখিতে চেষ্টা করা, মেসওয়াক করা, জামা-কাপড় সুন্নাতানুযায়ী ব্যবহার করা, ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা, হাত ও পায়ের নখ কাটিয়া পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি।
অর্থাৎ যিনি খাদেমুল কুরআন হইবেন তিনি নিজেকে আখলাকে নবুবীর দ্বারা আদর্শ মানুষ হিসাবে সমাজের সামনে পেশ করিবেন। যেমন:
(১) আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করিবার নাম ইখলাছ।
(২) নিরলসভাবে কাজ করিয়া যাইবার নাম মেহনত
(৩) জরুরত মোতাবেক বা প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ সমাধা করিয়া দেওয়ার
সমস্ত কাজের কামিয়াবীর জন্য ৩টি গুণ অপরিহার্য :
(১) কাজের পূর্ণ আকাংখা-উদ্যম থাকিবার নাম যোশ।
(২) পর্যায়ক্রমে কাজ চালাইয়া যাইবার নাম হুশ এতবা
(৩) কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অটল-অনঢ় থাকিয়া কাজ করা
আল্লাহ তা'য়ালা উপরোক্ত কথাগুলি পুরোপুরিভাবে আমল করিবার তাওফীক দান করুন। আমীন।
